এক শিক্ষার্থীর জন্য তিন শিক্ষক!


প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২২, ৭:১৩ অপরাহ্ন / ১৮৯
এক শিক্ষার্থীর জন্য তিন শিক্ষক!

মাত্র একজন ছাত্র দিয়ে চলছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ একজন শিক্ষার্থীর জন্য আছেন তিনজন শিক্ষক। তাছাড়া উপজেলার আরও ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জনের নিচে। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আগের সরকারি ছিলো ১১০টি। এর সঙ্গে নতুন সরকারিকৃত ১০৪টি বিদ্যালয় আছে। এ ২১৪ প্রতিষ্ঠানে ২২ হাজার ৬১৭ জন ছাত্র-ছাত্রী আছেন। এরমধ্যে ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ এর নিচে। অর্ধশতের কম শিক্ষার্থী থাকা এ প্রাথমিক বিদ্যালয়েগুলোর ৮টি আগের সরকারি ও ১৩টি সরকারিকৃত। তার মধ্যে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া  অর্পণ সরকারই এক মাত্র ছাত্র।

১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ডুমুরিয়া উপজেলার ১নং ধামালিয়া ইউনিয়নের ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন তিনজন শিক্ষক। আর বিডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক পড়াচ্ছেন ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে। ৬নং মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কুড়েঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চারজন, শিক্ষার্থী ৪৫জন। ৭নং শোভনা ইউনিয়নের পল্লীশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক চারজন, শিক্ষার্থী ৪১জন। খোরেরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চারজন শিক্ষার্থী ৪২ জন ও পি কে বলাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন ও শিক্ষার্থী ৪৬ জন। 

৮নং শরাফপুর ইউনিয়নের জালিয়াখালী চাঁদগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চার জন শিক্ষার্থী ও ৪২জন। ৯নং সাহস ইউনিয়নের লতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ৪ জন, শিক্ষার্থী ২৫ জন ও চরচরিয়া নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৫ জন, শিক্ষার্থী ৪০জন। 

১০নং ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের খড়িবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চারজন, শিক্ষার্থী ৩৪ জন, ধানিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন, শিক্ষার্থী ৩৭ জন, তালতলা কুশারহুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন, শিক্ষার্থী ৩২ জন। বকুলতলা ধানিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৫ জন  শিক্ষার্থী ৪২ জনা, লোহাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন ও শিক্ষার্থী ৪৩ জন। জাবড়া ওড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ৫ জন, শিক্ষার্থী ৩৮ জন। ১২নং রংপুর ইউনিয়ন সাড়াভিটা নরেন্দ্র নাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন, শিক্ষার্থী ৪৫ জন। ১৪নং মাগুরখালি ইউনিয়ন কোড়াকাটা শুকুরমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন শিক্ষার্থী ৩৯জন, বাগারদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন, শিক্ষার্থী ৪৩ জন, কৈপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন, শিক্ষাথী ৩৬জন, লাঙ্গলমাড়া খাগড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন, শিক্ষার্থী ৪৬ জন ও পূর্ব পাতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ৪ জন,শিক্ষার্থী ৩৭ জন।

ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একজন ছাত্র থাকার কথা স্বীকার করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ২৯টি পরিবার নিয়ে আমাদের ময়নাপুর গ্রাম। এই গ্রামে গত ৭ বছরে কোনো বাচ্চা জন্মেনি বলে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর এই দুরাবস্থা।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিকদার আতিকুর রহমান  দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, শিক্ষার্থী সার্ভের পর গত মার্চ মাসে ময়নাপুর স্কুলটি বন্ধের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে লিখেছি। কিন্ত এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি।

খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুদ্দোহা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ওই স্কুলটি বন্ধ করে সেখানকার শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেছি। সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।