করোনাভাইরাসের উপর আন্তজার্তিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১০, ২০২০, ৫:১২ অপরাহ্ন / ২৩৫
করোনাভাইরাসের উপর আন্তজার্তিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

কাজী এহসান আহমেদ, বশেমুরবিপ্রবি

“প্রথম বিএসএমআইএবি-সিওবি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিক” অনুষ্ঠিত হয়েছে অনলাইনে।এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি, ইম্যুনোলজি এন্ড এডভান্সড বায়োটেকনোলজি (বিএসএমআইএবি) এবং কমিউনিটি অব বায়োটেকনোলজি (সিওবি)। প্রাণবিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা ক্ষেত্র তৈরী, বিশ্বময় আগ্রহী তরুণদের মধ্যে গবেষণা ও যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি ও নতুন গবেষকদের প্রতিভার প্রকাশ ও বিকাশের লক্ষ্যে এই অভূতপূর্ব মহামারীকালেও আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। ৬ থেকে ৮ নভেম্বর তিন দিন ব্যপী অনুষ্ঠানটিতে ছিল পাঁচটি বৈজ্ঞানিক সেশন যেখানে স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক গবেষক ও প্রাণবিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। ছিল কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীদের প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক আর্টিকেলসমূহের মৌখিক উপস্থাপনা। এছাড়াও ছিল কোভিড-১৯ সম্পর্কিত পোস্টার ও কুইজ সেশন।
কনফারেন্সের সভাপতি ছিলেন ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (বিএসএমআইএবি সভাপতি, বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার), সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ড. মো. জামাল উদ্দিন (রিসার্চ প্রফেসর, এউহা ওমেন্স ইউনিভার্সিটি, সাউথ কোরিয়া)। মো. হাসানুর রহমান, ইউশা আরাফ, আসাদুল্লাহ, বিশ্বজিৎ, নৈরিতা, সাদরিনা, ফাইজা সব আরো বহু সাধারণ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই কনফারেন্সটি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।
৬ নভেম্বর, ১ম দিনের ১ম সেশনটির বিষয় ছিল “ভার্চুয়াল স্ট্রাকচার এন্ড জেনোমিক্স”, যার সম্মানিত চেয়ার ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং স্পিকার ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন।
২য় সেশনটির নাম ছিল “ট্রিটমেন্ট/অলটারনেটিভ মেডিসিন”। এই সেশনটির চেয়ার ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম এবং স্পিকার ছিলেন শের-এ-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. নজরুল ইসলাম ও জাপানের ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. নাবিউল ইসলাম।
৭ নভেম্বর, ২য় দিনের ১ম সেশনটি ছিল “প্যাথোজেনেসিস/ইম্যুনোপ্যাথলজি”। চেয়ার ছিলেন চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ড. সমীর কুমার সাহা। সম্মানিত স্পিকাররা ছিলেন কোরিয়ার কোরিয়া ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির ড. মো. আতাউর রহমান আর কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া-ভ্যাঙ্ক্যোভারের পিএইচডি ক্যান্ডিডেট রাশেদুল ইসলাম রনি।
এদিনের ২য় সেশনটি ছিল “ডেভেলপমেন্ট অব ডায়াগনোস্টিক কিট্‌স এন্ড ভ্যাক্সিন্‌স” এর ওপর। সেশনটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ। স্পিকাররা ছিলেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. নজরুল ইসলাম ও কানাডার আলবার্টা মিনিস্ট্রি অব হেলথের ড. শাহরিয়ার রোজেন।
৮ নভেম্বর ৩য় দিনের সেশনটি ছিল “এভল্যুশনারি অরিজিন/হোস্ট রেঞ্জ/জ্যুনসিস” সম্পর্কিত। চেয়ার হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মাহফুজুল বারী। সেশনটি পরিচালনা করেন ড. ইসলাম। স্পিকার হিসেবে ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন।
মৌখিক উপস্থাপনা, পোস্টার উপস্থাপনা ও কুইজের বিজয়ী ঘোষণার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে। প্রতি বিজয়ী পেয়েছেন পাঁচ হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার। মৌখিক সেশনের বিজয়ীরা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌরভ বিশ্বাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাহমিদা বেগম মিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. সারওয়ার জাহান এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির মাসুমা আফরিন তানিয়া। পোস্টার উপস্থাপন প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৌসিফ বিন মাহমুদ। কুইজ প্রতিযোগীতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইয়ান আল ইসলাম রেশাদ বিজয়ী হয়েছেন।
কনফারেন্সের প্রযোজক ছিল এবিএক্স-বায়োকেয়ার নামের একটি বায়োরিসার্চ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত একটি অলাভজনক ব্যক্তিগত সংস্থা এবং এক্স-জেনোমিক্স নামের সংস্থা যারা জেনোমিক্স ও বায়োইনফরম্যাটিক্সে বৃহত্তর গবেষণা গোষ্ঠীকে সহায়তা দান করে থাকে। উক্ত অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সহায়তা করেছে ‘জার্নাল অব এডভান্সড বায়োটেকনোলজি এন্ড এক্সপেরিমেন্টাল থেরাপিউটিএক্স (জেএবিইটি), এবিএক্স বায়োরিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভাইরোলজি, মেকামাইন্ড ও সুইফট ইন্টেগ্রিটি কম্পিউটেশনাল ল্যাব। সমগ্র বিজ্ঞান বিশ্ব এই জ্ঞান ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহারপূর্বক মানবজাতির কল্যাণের পথে ধাবিত হবে – এই লক্ষ্যে এই সফল অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল প্রাণবিজ্ঞানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গবেষকদের মিলনমেলা।