ধুন‌টে ভূমি অফিসে ৫৪ পদের ৩৩টি পদই শূণ্য


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২১, ৫:৫৮ অপরাহ্ন / ২৩৩
ধুন‌টে ভূমি অফিসে ৫৪ পদের ৩৩টি পদই শূণ্য

ফজ‌লে রাব্বী মানু, ধুনট ( বগুড়া )প্রতি‌নি‌ধিঃ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কর্মী সংক‌টে ভূমি অফিস।৫৪ পদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৩৩টি পদ শূণ্য রয়েছে। জনবলের চরম সংকটে অফিসের কর্মকান্ডে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে। অ‌তি‌রিক্ত চাপের ফলে অফিসে খাজনা-খারিজ সহ ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করতে আসা সেবাগ্রহিতাগণ বিড়ম্বনার স্বীকার হ‌চ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি, এ্যাসিল্যান্ড) সহ মোট ১৪ টি পদ রয়েছে। এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮জন। এর মধ্যে গুরত্বপূর্ন সহকারী কমিশনার, সার্ভেয়ার ও কানুনগোর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অথচ সরকারি জমি রক্ষার্থে প্রতিনিয়ত হাট বাজারের পেরিফেরী ও চান্দিনা ভিটি রক্ষনাবেক্ষন, ই-নামজারীর, তদন্ত প্রতিবেদন, অবৈধ দখলদার চিহ্নিতকরন এবং তাদের উচ্ছেদের জন্য এ্যাসিল্যান্ড, কানুনগো,সার্ভেয়ারের রয়েছে মূল দায়িত্ব।

উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ১ জন,কানুনগো ১ জন, সার্ভেয়ার ১ জন, প্রসেস সার্ভেয়ার ২ জন, চেইনম্যান ২ জন, অফিস সহায়ক ২জন এবং অফিস সহকারী ৫জন থাকার কথা সেখানে এ অফিসে মাত্র ১ জন প্রসেস সার্ভেয়ার, ১ জন চেইনম্যান, ২ জন অফিস সহকারী ও ২জন অফিস সহায়ক দিয়ে কাঙ্খিত সেবা দেওয়া কখনোই সম্ভব না। এতো কম জনবলের কারনে একদিকে যেমন সেবা প্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে অন্যদিকে ভূমি অফিসের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরী হচ্ছে। আবার সময় বেশি লাগায় সেবা প্রার্থীরা আগে কাজ পেতে নিজেরাই ঘুষ প্রদানে বাধ্য হচ্ছে।

উপজেলা ভূমি অফিস ছাড়াও ১০টি ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে ভূমি অফিস রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ১জন করে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, ১জন করে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ২জন করে অফিস সহায়ক পদ রয়েছে। অথচ ১০টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার পদ শূণ্য।  উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ১০ জনের স্থলে আছেন ৫জন এবং ২০ জন অফিস সহায়কের স্থলে আছেন ১০জন। পাঁচজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ১০ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজকর্ম। এ উপজেলায় সেবা প্রার্থীদের চাহিদার তুলনায় জনবল কম হওয়ায় কাঙ্খিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভূমি অফিসকে। এর সাথে আগে থেকেই রয়েছে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং বিদ্যুৎ সমস্যা।

এই অফিসে লোকবল না থাকায় সাধারণ মানুষ সময় মত জমির প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবসী। ফলে তারা চিকিৎসা, ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ, বিয়ে, বিদেশ যাত্রাসহ অন্যান্য জরুরি কাজে টাকার প্রয়োজনে সময়মতো জমি বেচা-কেনা করতে পারছেন না। নামজারি, জমা, খাজনা খারিজসহ জমিজাম সংক্রান্ত জরুরি বিষয়গুলির জন্য এ অফিসে সেবা নিতে এসে ঘুরতে হচ্ছে দিনের পর দিন। এ ছাড়াও একই কারণে অনেককেই পড়তে হচ্ছে বহুমুখী সংকটে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, মূলত নামজারী বা জমা-খারিজ,জমির এলডি ট্যাক্স, মিস কেস, সরকারী খাস জমি বন্দোবস্ত ও উদ্ধার সহ সরকারি বিভিন্ন আদেশ প্রতিপালনে জনবলের সংক‌টের কারণে খুব বেগ পেতে হচ্ছে। অফিসে জনবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে।