নবীনদের পদচারণায় মুখরিত বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাস


প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২২, ৩:১৫ অপরাহ্ন / ২৪২
নবীনদের পদচারণায় মুখরিত বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাস

সিনথিয়া সুমি

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাজারো তারুণ্যের স্বপ্নময় মুখ। মূলত স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কাঙ্ক্ষিত সিটের জন্য ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে সব শিক্ষার্থী চায় নিজের পছন্দ কিংবা সেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়াশোনা করতে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যাপীঠ গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবার ২০২০-২১ সেশনে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত আসন দখল করে নিয়েছে তারা। তারই প্রেক্ষিতে বশেমুরবিপ্রবিতে বিভিন্ন বিভাগে চলছে নবীনদের বরণ করে নেওয়ার পরিকল্পনা। প্রতিবছর জানুয়ারিতে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে এবার দুই বছর পর শুরু হলো নবীন শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ৩১ মার্চ ফ্রেশারদের নানা আয়োজনে স্ব-স্ব বিভাগ নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে। নিজ নিজ বিভাগ তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছে তাদের সুন্দরভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য। প্রতিবছর নতুনদের আগমন মাতিয়ে তোলে ক্যাম্পাস। মূলত স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীদের জীবনে সবচেয়ে বেশি আনন্দময় মুহূর্ত হলো ক্যাম্পাস জীবন। প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের সোনালি জীবনের পদযাত্রা শুরু করে। চান্স পাওয়ার পর প্রত্যেকেই স্বপ্নের ক্যাম্পাস নিয়ে মনে মনে আঁকতে থাকে নানান স্বপ্ন, নানান পরিকল্পনা। প্রস্তুতি নিতে থাকে ক্যাম্পাসের প্রথম দিন কীভাবে কাটাবে এবং কী করবে। নবীন শিক্ষার্থীদের এই পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচকানাচে। তারা যেহেতু বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে এবং সবাই অপরিচিত তাই তারা একে অপরের সাথে পরিচয় হচ্ছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে নতুন ক্যাম্পাসে নতুন জীবনের শুরু, সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি! এসব দৃশ্য দেখে আমাদের নবীন সময়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আনাচকানাচে হাজার ও নীবন শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। তাদের পদচারণায় মুখরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চত্ত্বর। সিনিয়রদের ও যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। সিনিয়ররা অনেকেই মেয়ে পটানোর ধান্দায় রয়েছে আবার কেউ বা তাদের নানান রকমের সাহায্য করছে। নবীনদের চোখ ভরা স্বপ্ন এবং মনে অনেক আশার আলো লক্ষ করা যায়। নবীনদের অনেকের মুখে এই কথাটি বারংবার শোনা যাচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে আসতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। ক্যাম্পাসের সেই আড্ডাস্থলগুলোতে পুরাতনদের পাশাপাশি যোগ হয়েছে নতুন কিছু মুখ, যাদের মুখে দেখা যাচ্ছে সাফল্যের মিষ্টি হাসি। কেউ কেউ একসঙ্গে সেলফি তুলছে, কেউবা একসঙ্গে বসে খোশগল্প ও আড্ডায় মেতে উঠছে। নবীনরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচিত্র ধরনের স্বপ্ন নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে এসেছে। এরাই তো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা যেহেতু দূরদূরান্ত থেকে এসেছে তাই সকলের উচিত তাদের ভুলগুলো শুধরে দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে তাদের বোঝানো। ম্যানার শেখানো নামে যেন তাদের সাথে অত্যাচার করা না হয় এদিক টাও খেয়াল রাখতে হবে। তাদের পরিবার পরিজন কেউ নেই এখানে, প্রথমত অপরিচিত নতুন জায়গায় মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে কিন্তু কিছুদিন পর ঠিকই সব স্বাভাবিক হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের থেকে তাদের অনুভূতি জানতে চাইলে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী মো. আইয়ুব আলী তার অনুভূতি এভাবে প্রকাশ করেন, “ছাত্র জীবনের স্বর্গ হল বিশ্ববিদ্যালয়, জীবনের অন্তিম পর্যায়ে এসে যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে তুমি জীবনে কি ফিরে পেতে চাও? আমি হাসি মুখে বলবো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ওই চারটা বছর ফিরে পেতে চাই, যদি বলে তুমি রাষ্ট্রপতি হতে চাও নাকি চারটা বছর ফিরে পেতে চাও,
তবুও আমি বলব আমি ঐ চারটা বছর ফিরে পেতে চাই।”

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এই অনুভূতি ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় মানে নতুন জীবনের সূচনা। স্বপ্নগুলো পায় সজিবতা। আশা পাখির মত ডানা মেলে। শিক্ষাজীবনের অন্যতম একটি স্বপ্ন হলো, একটি স্বপ্নময় বিদ্যাপীঠ। ভর্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ক্যাম্পাসের অনুভূতিটা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকে, তেমনি আমার জীবনেও।

সর্বোপরি বলতে চাই, আসলেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কখনও ভোলার মতো না। কত স্মৃতি থাকে এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পড়াশোনাই না হাজারো জ্ঞানার্জন করা যায়। নতুনদের উদ্দেশ্যে বলছি, তোমরা দূর থেকে এসেছো প্রথমত অনেক কষ্ট হবে কিন্তু কিছুদিন পর ঠিকই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো সমস্যা হলে সিনিয়র ভাই-বোনদের থেকে সাহায্য নিবা। তোমাদের পদচারণায়, প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠুক বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা। সকল স্বপ্নবাজদের জন্য রইলো শুভকামনা।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।