বশেমুরবিপ্রবি’র দুই শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২২, ২০২০, ১২:৩৬ অপরাহ্ন / ২৬৩
বশেমুরবিপ্রবি’র দুই শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে

ক্যাম্পাস ডেস্কঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কৃষি ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের প্রথম বর্ষের দুইজন ছাত্রীকে মেস মালিকের দ্বারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের ছাত্রী জানান, “আমরা নবীনবাগ এলাকার খন্দকার মোফাজ্জল হোসেনের বাসায় থাকতাম। গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাসা পরিবর্তন করতে গেলে মেস মালিক নাসরিন খন্দকার ও তার কলেজে পড়ুয়া মেয়ে রেশমীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়। বাড়িওয়ালা আন্টির মেয়ে আমাদের থেকে বয়সে ছোট, তাও আমাদের সাথে তুই তুকারি করে যাচ্ছে তা বলল। আন্টি ও তার মেয়ে আমাদের পিতামাতা ও পরিবার নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করেছে যা একজন বাড়িওয়ালা থেকে কাম্য নয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরোও জানান, “আমাদের এক বছরের বাসা ভাড়ার চুক্তি ছিল এবং চুক্তি অনুযায়ী আর একমাস বাকি ছিল। মহামারি করোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা ৯ মাস পর এসে চুক্তি অনুযায়ী অবশিষ্ট এক মাসের ভাড়া পরিশোধ করে বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই। বাসা ভাড়ার টাকা পরিশোধের পরে বাড়িওয়ালার সাথে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। আমরা জিনিসপত্র গোছাতে থাকি এমন সময় বাড়িওয়ালা আন্টি বিলের হিসাবের ৪৩৫ টাকা দিতে বলে। আমরা বলি দিব, জিনিসপত্র সব একটু গুছিয়ে নেই।

তখন বাড়িওয়ালা বলে না, তোরা এক্ষুনি টাকা দিবি। তোদের জন্য আমি সারাদিন এইখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবোনা। তোদের পিছনে আমি ঘুরবোনা, দরকার হলে তোরাই আমার পিছনে ঘুরবি। আন্টির সাথে কথা হচ্ছে এই সময় হঠাৎ ওনার মেয়ে এসে আমাদের সাথে তুই তুকারি করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলে তোদের সাথে আমাদের সব লেনদেন শেষ, তোরা এখন বাসা থেকে হয়ে যা এবং আমাদের ফ্যামিলি নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্যও করতে থাকে। একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা আন্টি আমাদের ধাক্কাতে ধাক্কাতে বাড়ির গেটে নিয়ে আসে। পরে ভ্যানওয়ালা মামা ওনাকে বুঝিয়ে বাড়ির ভেতরে পাঠিয়ে দেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা নাসরিন খন্দকার নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন এমন কোন ঘটনায় ঘটেনি।

এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়ে বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা শারীরিক নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছে, আমরা পরবর্তীতে ঘটনা স্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।”