সফলতার পথে


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২০, ১:৪১ অপরাহ্ন / ১৫৬
সফলতার পথে

রুহিনা আক্তার হেনা

জীবনযুদ্ধে কখোনো কখোনো নিজেকে মনে হবে যেন খসে পড়ে যাচ্ছি মহাকাশের বিশাল বলয় থেকে। সেখানকার প্রতিটা বলয় যেন আমাকে সরিয়ে দিচ্ছে হাজার মাইল দূরে। আমি যেন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছি। সত্যিই মানুষের জীবন খরস্রোতা নদীর মতো যা পাথরের আঘাতে আঘাতে পরিপূর্ণতা আসে, অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়। যাতে সে হোচট খেয়ে শিখতে পারে, চিনতে পারে জীবন কী। বাধা পেয়ে পেয়ে নদী যেমন আঁকাবাঁকা হয় তেমনি মানুষের জীবনেও দেখা যায় একটি পথে পা বাড়ালো কিন্ত পথ রুদ্ধ।

ঠিক তখন বাধা পেয়ে বাধ্য হয়ে সে অন্য পথের দিকে মোড় ঘুরিয়ে নেয়। আর এইভাবে যদি লক্ষ্য মজবুত থাকে তাহলে কোন একসময় ঠিকই সঠিক পথ পেয়ে যায়। আর এই যে বাধা পেয়ে অন্য পথ খোজার প্রয়াসের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয় ভাল- মন্দ লাগা, ভালবাসা- ঘৃণার মতো উর্ধ্ব- নিম্ন ভাবনা ও রুচিবোধ। নদীতে যেমন ঢেউ ওঠে তেমনি মানুষের জীবনেও দুঃখ- কষ্ট, শুণ্যতার ঢেউ ওঠে। সময়ের বিবর্তনে নদীর ঢেউ থেমে যায় কিন্ত জীবনের ঢেউ প্রাপ্তি স্বীকার অবধি থামেনা। এটা বেলা- অবেলায় লোনাজলে প্লাবিত হয়ে বয়ে যায় জীবনের টানে আকুল জোয়ারে। আর এর ভাটা পরে মৃত্যু দিয়ে। কেউ হয়তো বড়জোড় তোমার হয়ে তোমার জন্য স্বপ্নের বীজ বপন করে দিতে পারবে কিন্ত স্বপ্নের ঠিকাদারি নিবেনা কস্মিনকালেও। মানুষ স্বপ্ন দেখে নিজের জন্য আর অন্যকেও এই স্বপ্নে একটা রোল প্লে করার সুযোগ দেয় নিজের জন্যই। কিন্ত কেউ কারো জন্যই স্বপ্ন পূরণে দিন পাড়ি দেয়না। আর যারা এরকমটা করে তারা পৃথিবীর সবচেয়ে বোকা। কথায় আছেতো নিজের ভালো পাগলেও বুঝে। হ্যাঁ, তুমি কারো স্বপ্নে ততক্ষণই আছো যতক্ষণ স্বপ্নটা বাস্তবায়নের পথ ছিলো অর্থাৎ,বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন ছিলো।হয়তো কখনো কখনো স্বপ্নগুলো মিলে যায় তখন একসাথে স্বপ্নগুলো কল্পনায় জোড়া লাগায় কিন্ত অবশেষে স্বপ্নের পথে নিজেকেই দূর্গম গিরি পথ পাড়ি দিতে হয়।

সবার বেলায় নয় তবে কিছু মানুষ আছে যাদের স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেলে তখন আর যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতো তাকে প্রয়োজন হয়না। মানুষের স্বপ্ন বদলায়না স্বপ্নের প্রয়োজনে মানুষটাই বদলে যায়। আজ যারা তোমাকে তাদের স্বপ্নের অংশ করে নিয়েছে তারাও সময় সাপেক্ষে তোমায় ত্যাগ করবে। কারন স্বপ্নের খেলাগুলো এরকমই হয় ঠিক ঐকিক নিয়মের অংকের মতো কাটাকুটি করে ভাগফল শুণ্য যা নিজের হাতেই থেকে যাবে। কেউ যদি স্বপ্ন দেখায় ঐশ্বর্য আর সম্পদের তবে ভাববে সেখানে তুমি মিথ্যে সাক্ষী। পড়ন্ত বিকেলের লালিমা তোমায় গ্রাস করবে কিন্ত কিছুই পাবেনা। সামান্য হেরফের যদি করো দেখবে স্বপ্নবাজ লোকটার চেহারাও বাংলার পাঁচ হয়ে যাবে। আর এটাই লোকের স্বভাব একশটা রসগোল্লা খাওয়ানোর পর যদি মশকরা করেও কানমলো একবার, তাহাই মনে করবে হাজারবার। পরিবার, বন্ধু- বান্ধব যেই হোক না কেন তাদের স্বপ্ন পূরণে নিজের স্বপ্নকে কখনো ছাইচাপা দিয়ে বিসর্জন করে মহৎ সাজতে যেওনা। তাহলে পস্তাবে জীবনের ভাজে ভাজে। আর যদি কারোর সাথে স্বপ্নগুলো মিলে যায় পাশাপাশি চলো, আর যদি না মিলে আপোস করো তবুও নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিওনা। কারন মনে রাখবে তোমার স্বপ্ন বিক্রি করে যাদের স্বপ্ন সাজাবে তারাই একদিন তোমাকে বাজারে নিলামে তুলবে এবং হাক ছেড়ে ডাকাডাকি করে বিক্রয় করে দিবে। লেনদেনের হিসেব নিয়ে বেচে থাকা যায় কিন্ত ভাগশেষ শুণ্য হলে সব কিছুই বৃথা। তাই স্রেইফ স্বপ্ন দেখো, স্বপ্নের পথে চলো কল্পনা করোনা কষ্ট পাবে। সব হারিয়ে, সমস্ত অবহেলা সহ্য করেও স্বপ্নের পথে চলো অন্তঃত বাচার প্রেরণা নিজ থেকেই পাবে। মনে রেখো, যদি তোর ডাক শুনে কেউ নাই আসে, তবে একেলা চলোরে।

বিশ্বাস করেন বা না করেন কারো কারো যেন জন্মই হয় চাকুরি করার জন্যে। কিন্তু যখন যথেষ্ট মেধা, শ্রম দিয়েও তাদের চাকুরি হয়না বরং চাকুরি হয়ে যায় মেধাহীন, শ্রমহীন,মাথামোটা এমন লোকদের তখন মেধাবীদেরকে শুনতে হয় পরিবার,সমাজ ও বন্ধুমহলে তিব্র নিন্দা। পৃথিবী নিষ্ঠুর হয়েছে হোক। আপনি কেন নিজের প্রতি নিষ্ঠুর হবেন? সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনাকে ভালোবাসার মত কাউকে পাবেন না। কিন্তু একবার সফল হয়ে গেলে এত বেশি ভালোবাসা পাবেন যে, সব ভালোবাসার রিপ্লাই দেয়ার সময়ও পাবেন না। সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজেকে নিজেই ভালোবাসতে হয়। কষ্টের উপর কষ্ট রেখে, দাঁতে দাঁত চেপে জেদ করে শুধু লেগে থাকতে হবে টার্গেট পূরণের আশায়। আজ যারা বলছে “তোমাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না “, কাল আপনি সফল হলে পরশু আবার তারাই বলবে “জানতাম তোমাকে দিয়েই হবে “।জীবনে চলার পথে,অনেক রকমারি খেয়াল মনে ভর করবে।মোস্ট অফ দ্য টাইম,আমরা চাই,আমাদের জীবনে আমাদের স্বপ্ন পূরনের সাথী হোক কেউ একজন।

এই চাওয়া টা নিছক একটা বোকামি বৈ কিছু নয়।সফলতা অর্জন করার আগ পর্যন্ত জীবন পথে যে একাই হাঁটতে হয়!সময় এমন এক ধ্রুব সত্য,এই সত্য মাঝে মাঝে পরিস্থিতি গুলোকে পাল্টে দেয়,দাবার,গুটির মতো।সফলতা পেয়ে গেলে আপনার মন এমন ভাবে বদলে যেতে পারে যে নিজের অবাক হওয়ার ক্ষমতাটা ও হয়তো তখন থাকবে না। তা হয়তো তখন পরিস্থিতির বশেই চলে যাবে।তখন হয়তো নিজেই সেই স্বপ্নসারথি যাকে কিনা স্বপ্নের শুরুতে তোমার স্বপ্নঘোটকীর লাগাম বানানোর জন্য মরিয়া ছিলে,সেই স্বপ্নকন্যাকে আর জীবনে স্থান দিতে পারবে না,তখন যোগ্যতার একটা মাপকাঠি হয়তো তোমার মনে দেয়াল তুলে দিবে।আবার বিষয়টা অন্যরকম হতে পারে। মনে করো,তোমার স্বপ্নপূরনের যাত্রা শুরুর সঙ্গী করলে যাকে সে ই একসময় তোমার স্বপ্ন পূরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো। ভুল কাউকে নির্বাচন করে ফেললে।আর কিছু ভুলের মাশুল সারাজীবন দিতে হয়।তাই বলছি,নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্ব টা সবসময় নিজেকেই নিতে হয়। আমি মনে করি,সফলতাকে ছোঁয়ার জন্য একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে,নিজেকে বুঝতে হবে,নিজেকে জানতে হবে,নিজের লক্ষ্য টাকে ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

তোমার স্বপ্ন টা তোমারই,সেটাকে বাস্তবায়ন করতে হবে তোমাকেই।কে তোমার স্বপ্নসারথি হবে, কার পরশে তোমার জীবনে সফলতা আসবে এসব ভেবে বৃথা সময় নষ্ট না করে,নেমে পড়ো নিজেকে গড়ার কাজে একাই।কত বৈচিত্র্যময় এ জীবন!যদি কখোনো আলাউদ্দীনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো আশ্চর্যরকম একটা খাঁটি মানুষ পেয়ে যাও,যে তোমার স্বপ্নটাকে পূর্ণতা দান করতে পারবে , খোঁজ নিয়ে দেখবে,তার কাধে হাজারও স্বপ্নের ভার।হাজারও দায়িত্বের শিকড় সে।হয়তো,খুব করে চেয়েও পাবে না তাকে,কিন্তু ভেঙে পড়লে চলবে না, এই না পাওয়ার দুকখটাকে শক্তিতে পরিনত করো।লড়ে যাও একাকী।ভুলেও স্বপ্নের লাগাম অন্য কাউকে দিয়ো না,যদি সে ভুল মানুষ হয় তাহলে তোমার স্বপ্নের সাথে সাথে জীবনটা ও তছনছ হতে সময় লাগবো না।

দিনশেষে মানুষ তোমার সফলতাকেই বিচার করবে,তোমার সফলতা নিয়েই প্রশ্ন তুলবে।এই ছোট্ট জীবনে,এতটুকু অন্তত উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, তোমার কথার মূল্যায়ন তখনি করা হবে যখন তুমি নিজের একটা অবস্থান তৈরী করতে পারবে।যখন তুমি সমাজের প্রথম শ্রেনীর একজন নাগরিক হতে পারবে তখন তোমার নেগেটিভ কথার পক্ষে ও তোষামোদ করার মানুষের অভাব হবে না,আর যখন তুমি নিজেকে প্রমান করতে পারবা না,জীবনপথের বাধাগুলোর কাছে হেরে গিয়ে সফলতাকে না ছুতে পারা একজন ব্যর্থ সৈনিকের মতো জীবন যাপন করবা তখন যদি কোনো ইস্যুতে তুমি পজিটিভ কথাও বলো তাহলে তা মুল্যায়ন করা হবে না,বরং তোমার সেই পজিটিভ বার্তার সমালোচনা করার মানুষ ও জুটবে না।

তাই বলছি,পাওয়া না পাওয়ার হিসেবটা এখন নয় বরং সফলতার পরে হিসেব করো।সাফল্যের পথে কিছু অন্তরায়: সঠিক সময়ে স্বপ্নঘোটকীর লাগাম ধরতে না পারা,বিফলতার আশঙ্ক্ষা,পরিকল্পনার অভাব, পারিবারিক ঝামেলা,মতের পরিবর্তনশীলতা,নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ঊপর দৃষ্টি নিবন্ধ না করা, আশু আর্থিক লাভের আশায় ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ত্যাগ করা,দায়বদ্বতার অভাব, প্রশিক্ষণের অভাব,অধ্যাবসায়ের অভাব।

সফল হতে হলে অবশ্যই নিজেকেই আগে পজিটিভ হতে হবে। সফলতা বা ব্যর্থতা কারোর শরীরে সীল মারা থাকেনা। তুমি চেষ্টা করো।সাফল্য আসবেই। শুধুই সময়ের অপেক্ষা। মনে রেখো ব্যর্থ তুমি তখনি হবে যখন প্রচেষ্টা ত্যাগ করবেন। তাই দৃঢ় প্রত্যয়ে নিজেকে গড়ো।পাহাড় সীমানায় বিজয়ের পতাকা তুলে ধরো।

শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ