সালাউদ্দীনের স্বপ্ন উড়ে আকাশে


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৬, ২০২০, ৯:০৮ অপরাহ্ন / ৫৫১
সালাউদ্দীনের স্বপ্ন উড়ে আকাশে

ক্যাম্পাস ডেস্কঃ সালাউদ্দীন ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতো বিমানের পাইলট হওয়ার।মাধ্যমিকে পড়ার সময় মাঝে মাঝে দূর আকাশে চেয়ে থাকতো বিমান দেখার অপেক্ষায়।ছোট থেকে ভাবতো কীভাবে বিমানের পাইলট হতে পারবে।ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা সালাউদ্দিন জনির স্বপ্ন থেমে থাকেনি।

কলেজের গণ্ডি পার করে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগে। কৃষি বিভাগের ছাত্র হয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি আগ্রহ থাকায় বন্ধু-বান্ধবীরা তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে অধ্যায়ন করলেও কৃষি বিষয়ের চেয়ে তাকে মনুষ্য বিহীন বিমানের বিভিন্ন বিষয়গুলো প্রচুরভাবে টানত।কয়েকজন বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের নিয়ে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠাতা করেন বশেমুরবিপ্রবি বিজ্ঞান ক্লাব। শুরু করেন ড্রোন বানানোর কাজ।

সালাউদ্দিন জানান, গবেষণার শুরুর দিকে একটি ড্রোন তৈরি করেন যার ওজন ছিল পাঁচ কেজি ও লম্বায় ছিল ৫ ফুট এটি সর্বোচ্চ ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১ হাজার ফুট উচ্চতায় পঁয়ত্রিশ মিনিট ধরে উঠতে সক্ষম হয়।

এর ধারাবাহিকতায় স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় বাঁশ,কাঠ,কর্কশীট,ফোমশীট ব্যবহার করে ছোট আকারের ড্রোন বানানোর চেষ্টা করে এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে সফল ভাবে একটি ড্রোন বানাতে পারেন।এই ড্রোনটির ওজন ও ওড়ার সক্ষমতা সম্পর্কে সালাউদ্দিন বলেন, যার ওজন ১ কেজি।পরীক্ষামূলক এই ড্রোনটি পাঁচ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ রেখার ভিতরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ফুট উচ্চতায় এবং ১০০ কিলোমিটার গতিতে ২০ মিনিট উড্ডয়ন করতে পারে।

ড্রোনটির ব্যবহার সম্পর্কে সালাউদ্দিন বলেন, ড্রোনটি ভবিষ্যতে কৃষি কাজে কীটনাশক ছিটানো, বীজ বপন, কৃষি রোগ শনাক্তকরন এবং কৃষি ভৃমি পর্যবেক্ষণ,ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফি, জরুরী পন্য পরিবহন করতে সক্ষম হবে।

বশেমুরবিপ্রবি বিজ্ঞান ক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন পড়ার বিষয় কোনো কিছু অন্তরায় না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিষয় নিয়ে পড়েও যে স্বপ্ন সীমিত আকারে বাস্তবায়ন করা যায় তা দেখিয়েছেন। বাঁশ, কাঠ, কর্কশীট, ফোমশীট ব্যবহার করে ও যে ড্রোন তৈরি করা যায় তা দেখিয়েছেন।

সালাউদ্দীন জনি বলেন ‘আমি স্বপ্ন দেখি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশের যেখানে এ দেশের ছেলেমেয়েরাই অত্যাধুনিক প্রজন্মের বিমান তৈরি করবে এবং বৈশ্বিক বিমান শিল্পে নেতৃত্ব দেবে’।

তিনি আরো বলেন,আর্থিক সমস্যা থাকায় প্রজেক্ট নিয়ে ঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না।বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারী সহযোগিতা পেলে ভাল কিছু করবো।